মানের হবে বলে প্রত্যাশা সেনাপ্রধানের

আবদুল্লাহ আল হাদীআবদুল্লাহ আল হাদী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪২ PM, ১৩ অক্টোবর ২০২০

ওবায়েদ, নিজস্ব প্রতিবেদন ঃ   মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ত্রিশালের সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় এএসপিটিএসের নবনির্মিত মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনা উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

ত্রিশালের আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং অ্যান্ড স্পোর্টস (এএসপিটিএস) আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

ইন্সট্রাক্টরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী যাতে উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে পারেন সেইভাবে এটিকে আপনারা গঠিত করবেন। কারণ আমাদের এখানে বিদেশ থেকেও অনেক প্রশিক্ষণার্থী আসে। এটার স্যান্ডার্ড ওই পর্যায়ে আপনাদের নিয়ে যেতে হবে।

করোনার কারণে এর কাজ পিছিয়ে গেছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, গত বছর এর কর্মকাণ্ড শুরু হয় কিন্তু কোভিডের কারণে অনেকটা পিছিয়ে গেছে। না হলে আরও আগেই শুরু হয়ে যেত। যার জন্যে অনেকগুলো কোর্স যেগুলো আমরা এখানে চালু করার পরিকল্পনা করেছিলাম, সবগুলো সম্ভব হয়ে উঠেনি।কিন্ত ইনশাআল্লাহ বাকি কোর্সগুলো এখন থেকেই পরিচালনা করা হবে।

ত্রিশালের প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানান সেনাবাহিনীর প্রধান। তিনি বলেন, যেকোনো জায়গায় মুভ করলে শুরু থেকেই কিছুটা সমস্যা থাকে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যারা ত্রিশালের এই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আসবেন তাদের এখানে এসে খারাপ লাগবে না।

তিনি আরও বলেন, মন ভালো থাকলে শরীর ভালো থাকে, শরীর ভালো থাকলে মন ভালো থাকে। একটা আরেকটার সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে যারা থাকবে তাদের যেন মন ভালো থাকে, আপনারা যা শিক্ষা দিবেন তা শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে গ্রহণ করবে তাহলে তাদের মন ও শরীর ভালো থাকবে।

যে ধরনের প্রশিক্ষণের সাথে ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটিজ জড়িত আছে সেই প্রশিক্ষণগুলো ত্রিশালের এই ‘আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং অ্যান্ড স্পোর্টস’ সেন্টারে দেওয়া হবে বলেও জানান সেনাপ্রধান।

উল্লেখ্য, এএসপিটিএস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক একমাত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শারীরিক প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে রাজশাহী সেনানিবাসে এএসপিটিএস প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরিত করা হয়। এএসপিটিএস প্রতি বছর শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছাড়াও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের শারীরিক ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করতে সহায়তা করে।

এএসপিটিএস দেশীয় প্রশিক্ষণার্থী ছাড়াও বিভিন্ন বন্ধুপ্রতীম দেশ যেমন- শ্রীলংকা, সুদান, নেপাল ও প্যালেস্টাইনের প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। ঢাকা সেনানিবাসে শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অপ্রতুলতার জন্য একটি অত্যাধুনিক সুযোগ- সুবিধা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এএসপিটিএসকে একটি সুবিধাজনক এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ত্রিশাল সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :