১৫০০ বছর আগে মোহাম্মদ (সাঃ) এর বাড়ি দেখতে কেমন ছিল?

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৩২ AM, ২৩ অগাস্ট ২০২০

১৫০০ বছর আগে নবী (স)এর বাড়ী কতো বড়ো ছিলো? ভেতর দেখতে কেমন ছিলো? আসবাবপত্র কি ছিলো? এ নিয়ে বিভিন্ন হাদিসের তথ্য বিচার করে কিছু গবেষক সেই সময়ের আবহে রেপ্লিকা রুম বানিয়েছেন। এই ছবিগুলি সেই বানানো রুমগুলির মোটামুটি হবুহু প্রতিচ্ছবি।

নবী (স) ছিলেন তখন মক্কার শাসক। মদিনা ছিলো ধনীদের শহর। ইহুদীদের মধ্যে যেমন ধনী ব্যবসায়ী ছিলো তেমনি হজরত আব্দুর রহমান বিন আওফের (রা)এর মতো ধনী সাহাবীও ছিলেন যিনি মদিনায় টাওয়ার বানিয়ে ছিলেন। নবী (স) সেই উঁচু ইমারত পছন্দ না করায় তিনি তা আবার ভেঙেও ফেলে ছিলেন। মদিনার সেই দিনগুলিতে একটু ইচ্ছা প্রকাশ করলেই নবী(স) বিলাসী জীবন যাপন করতে পারতেন।

কিন্তু তিনি বলতেন, ‘আমার ও দুনিয়ার দৃষ্টান্ত হচ্ছে একজন আরোহীর মতো—যে একটি গাছের নিচে ছায়া গ্রহণ করে, বিশ্রাম করে এবং তাকে ছেড়ে চলে যায়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৭৭)

রাসুলুল্লাহ (সা) সাদাসিধে জীবন নিজেই বেছে নিয়েছিলেন; যেন উম্মত পার্থিব জীবনের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জানতে পারে।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা) তার কক্ষে একটি চাটাইয়ের ওপর শুয়ে ছিলেন। চাটাইয়ের ওপর কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার বালিশ। আমি তাঁর শরীরে চাটাইয়ের দাগ দেখে কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেন, কাঁদছ কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কায়সার ও কিসরা ( পার্সিয়া ও রোম সম্রাটদ্বয়) ভোগ-বিলাসে মত্ত অথচ আপনি আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে তাদের জন্য পার্থিব জীবন ও আমাদের জন্য পরকাল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯১৩)

মক্কায় রাসুলুল্লাহ (সা)-এর নিজস্ব কোনো ঘর বা বাড়ি ছিল না। খাদিজা (রা)-কে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত দাদা ও চাচার সঙ্গে থাকতেন এবং বিয়ের পর খাদিজা (রা)-এর বাড়িতেই থাকতেন।

মদিনায় হিজরত করার পর রাসুলুল্লাহ (সা) এর জন্যে মসজিদে নববির পাশে তাঁর থাকার বাড়িতে প্রয়োজনানুযায়ী ধীরে ধীরে মোট ৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়। অবকাঠামোতে কাঁচা ইট ও খেজুরের ডাল থাকতো। এক পাল্লাবিশিষ্ট কাঠের দরজার সামনে পশমের তৈরি কাপড়ের পর্দা ঝোলানো থাকত।

রাসুলুল্লাহ (সা)-এর ঘরগুলি ছিল অপ্রশস্ত। মুহাম্মদ (সা) এর ঘর মানুষকে মনে করিয়ে দিতো এই জীবন চিরদিনের জন্য নয়, বরং মুমিনের জন্য পরকালীন জীবনই প্রকৃত আবাস।

আয়েশা (রা) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা)-এর বিছানা ও বালিশ ছিল চামড়ার তৈরি এবং তার ভেতরে থাকতো খেজুরগাছের ছাল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৫৬)।
রাসুল (সা)এর ঘরে একটি চেয়ার, চামড়ার মশক ও লাল রঙের চামড়ার তাঁবু থাকার বর্ণনা পাওয়া যায়।
আয়েশা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা)এর বিছানা দেখে একজন আনসার নারী তাঁর জন্য তুলার একটি বিছানা পাঠালে তিনি তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘আমি যদি আল্লাহর কাছে প্রতিদান চাইতাম, তবে তিনি আমাকে পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্য দান করতেন।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ১৩৯৫)

নবী (স) তাঁর জীবনের বহুদিন শুধু খেজুর আর পানি দিয়ে খানা শেষ করেছেন, অনেক সময় খানা না থাকলে ক্ষুধার যন্ত্রনায় পেটে পাথর বেঁধে রাখতেন। কিন্তু উম্মত খেয়েছে কিনা সেটির দিকে থাকতো তাঁর মূল নজর। উম্মতের জন্যে সারাক্ষন চিন্তিত থাকতেন তিনি।

অথচ আজকের পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম শাসক ও নেতাদের দেখুন। তারা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত, নিজেদের জনগনের সম্পদ লুট করায় ব্যস্ত। কি জাকজমক পূর্ন জীবন যাপন করেন তারা! লোভ, একনায়কতন্ত্র তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখে। আজকের পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলমান নেতারা পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মোনাফেকের দল।

ইবন আব্বাস (রা) বলেন, নবী(স) বলেছেন, যে মানুষই যত লম্বা সময় ক্ষমতায় থাকুক না কেন তা কেয়ামতের দিন দশ দিনের বেশি মনে হবেনা, সেই শাসকদের হাতে ও গলায় শিকল বেঁধে হাজির করা হবে যতক্ষন না শাসক ও নাগরিকের মধ্যকার অধিকারের বিচার সম্পন্ন না হয়।” আল মুজাম আল আউসাত ২৮৮।

আবু হোরায়রা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেন, মোনাফেক তিনটি চিন্হ বহন করবে। যদিও সে নামাযী হয়, রোজা রাখে, এবং নিজেকে মুসলমান দাবী করে, কিন্তু যখন সে বক্তৃতা দেবে তখন সে মিথ্যা কথা বলবে, যা প্রতিশ্রুতি দেবে তা সে ভঙ্গ করবে, এবং যখন তাকে বিশ্বাস করা হবে তখন সে বেঈমানী করবে।
সহীহ বোখারী ৩৩ সহীহ মুসলিম ৫৯।

আপনার মতামত লিখুন :