তাহিরপুরে দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত প্রায় অর্ধশতাধিক

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৫৩ PM, ২২ অগাস্ট ২০২০

তানভীর আহমেদ তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হামলা সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন।

শনিবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বালিয়াঘাট নতুন বাজারে শুরু হওয়া ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলা সংঘর্ষ গড়ায় বিকেল সাড়ে ৫টা অবধি।,
উপজেলার উওর শ্রীপুর ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ সভাপতি আবুল খায়ের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য একই গ্রামের অমৃতপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম এ দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দু’দফায় থানা ও ফাঁড়ি হতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে এলোপাতারী লাটিচার্জ করলে সংঘর্ষে জড়িতরা সন্ধা সাড়ে ৬ নাগাদ বাজার ছেড়ে চলে যায় বলে যানান, তাহিরপুর থানার ওসি মো.আতিকুর রহমান।

উক্ত সংঘর্ষের মুখে ওই বাজারের আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা সন্ধা ৭টা অবধি তাদের শতাধিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন।

 

শনিবার সন্ধায় সরজমিনে স্থানীয় এলাকাবাসী ও উপজেলার বালিঘাঘাট নতুন বাজারস্থ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল খায়ের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউপি সদস্য একই গ্রামের অমৃতপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের মধ্যে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার এবং গ্রাম পার্শ্ববর্তী শিংরার ধাইর নামক একটি জলমহাল নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিলো।
এসব পুর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাতে আপক্তির কথা বার্তা বলায় পরদিন শনিবার সকালে বালিয়াঘাট বাজারে শফিকুল ইসলামের পরিবারের লোকজন আবুল খায়েরের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে উওপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এরপর বিকেল চারটার দিকে উভয় পক্ষের কয়েকশত সমর্থক আগাম ঘোষণা দিয়েই বাজারে সমবেত হয়ে দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা ইটপাটকেল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে প্রথম দফায় তাহিরপুর থানার টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির একদল সদস্য ঘটনাস্থলে আসলেও পরিস্থিতি অনুকুলে না আসায় এরপর থানা হতে ওসির নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা বিকেল সাড়ে ৫টায় বাজারে পৌছে সংঘর্ষে জড়িত উভয়ে পক্ষের সমর্তকদের এলেপাতারী লাঠিচার্জ করে চত্রভঙ্গ করলে সংঘর্ষে জড়িতরা সন্ধায় বাজার ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।,
সংঘর্ষে তাৎক্ষণিভাবে উভয় পক্ষের আহতদের নাম ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি।

 

তবে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর পুলিশী ধাওয়া খেয়ে শনিবার রাতে উভয় পক্ষের গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ হতে ২৫ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
শনিবার রাাত সংঘর্ষের কারন ও বক্তব্য জানতে আ’লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম এবং আবুল খায়েরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের উভয়ের ব্যাক্তিগত মুঠোফোনের সুইস বন্ধ পাওয়া যায়।

 

শনিবার রাতে তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, ফের সংগর্ষেল আশংকায় জনস্বার্থে উপজেলার বালিয়াঘাট বাজারে সন্ধার পর হতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :