করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে নতুন করে আরও সাড়ে ৩.৮ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মুখে পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

আবদুল্লাহ আল হাদীআবদুল্লাহ আল হাদী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০৭ PM, ০৪ অক্টোবর ২০২০

পুলক আহমেদ :   বিশ্ব ব্যাংক ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০টি দেশকে ঋণ দিয়েছে পাশাপাশি অর্থ সাহায্য করেছে। এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে বলে দাবি করেছে তারা। ভয়াবহ দারিদ্র আসতে চলেছে বিশ্বে, সতর্ক করছে এই সংস্থা। গত তিন বছর ধরে ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি গড়ে উঠেছে, তার ওপর যোগ হয়েছে করোনা ভাইরাস। যা থেকে খাদ্য-সংকট আরও বাড়বে বলেই জানান বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস।

মহামারির আক্রমণে বিগত পাঁচ দশকের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে কম আর্থিক বৃদ্ধির মুখ দেখতে পারে পূর্ব এশিয়া, চিন এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। মঙ্গলবার বিশ্ব ব্যাঙ্কের এক রিপোর্টে এমন আশঙ্কার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়েছে, নতুন করে দারিদ্রের গণ্ডিতে ঢুকে পড়তে পারেন প্রায় ৩.৮ কোটি মানুষ। সে ক্ষেত্রে গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথম বার দরিদ্রের সংখ্যা বাড়বে এই অঞ্চলে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ৩.৩ কোটি মানুষের দারিদ্রসীমা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা থাকলেও, তাঁদেরও থেকে যেতে হবে ওই সীমার মধ্যে।

ডেভিড মালপাস বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে লাখ লাখ জীবিকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের বিশ্লেষকরা একটি ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ভাইরাসটি দুইভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে প্রথমত অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে ভাইরাসটির প্রভাব এবং দ্বিতীয়ত আন্তর্জাতিক দারিদ্রসীমার নিকটে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা।

বিশ্ব ব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যারা দৈনিক ১ দশমিক ৯০ ডলারের (১৬১ টাকা) চেয়ে কম অর্থে জীবনযাপন করেন তারাই চরম দরিদ্র। করোনার কারণে ২০২০ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক উৎপাদন পাঁচ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হবে, যা দারিদ্র্য দূরীকরণে বিশ্বের দরিদ্রতর দেশগুলোর গত তিন বছরে প্রচেষ্টাকে মুছে ফেলবে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব ব্যাংক।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের বক্তব্য, গত কয়েক বছরে এই অঞ্চলের দেশগুলি দারিদ্র দূরীকরণে যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছে। অথচ, এ বছর মহামারির আক্রমণে ধাক্কা খেতে চলেছে সেই সাফল্য। দরিদ্রের সংখ্যা তো কমবেই না, উল্টে বাড়বে ৩.৮ কোটি।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ বছর মাত্র ০.৯% বৃদ্ধি হতে পারে পূর্ব এশিয়া, চিন এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। যা ১৯৬৭ সালের পরে সবচেয়ে কম। করোনা সংক্রমণ কমার সাথে সাথে সরকারি খরচ, ভাল রফতানির কাঁধে ভর করে একমাত্র চিনের আর্থিক বৃদ্ধি হতে পারে ২%। কিন্তু অবশিষ্ট অঞ্চলের অর্থনীতি সম্ভবত ৩.৫% সঙ্কুচিত হতে চলেছে। মহামারির প্রকোপ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ যে পদক্ষেপ করেছে, তারই মিলিত প্রভাব পড়েছে গোটা অঞ্চলের অর্থনীতির উপর।

বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সামাজিক প্রকল্পের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ, এর সুবিধা পেলে অর্থনীতির প্রতি আস্থা বাড়বে শ্রমিক ও কর্মীদের। বস্তুত, করোনার আগে থেকেই যে সমস্ত দেশ সামাজিক প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে পেরেছে, তাদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতেও সুবিধা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, কর সংগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সরকারকে আর্থিক সংস্কারেরও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ।

আপনার মতামত লিখুন :