নারী স্বাধীন নাকি পরাধীন,সোহা চৌধুরী

আবদুল্লাহ আল হাদীআবদুল্লাহ আল হাদী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪০ PM, ০৩ অক্টোবর ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি :   শুনছি নারী নাকি আজকাল খুব স্বাধীন!
নারী নাকি ইচ্ছে করলেই একা একা স্বাধীন জীবন কাটাতে পারে! পুরুষের মতো কর্ম করে সমান তালে তাল মিলিয়ে চলতে পারে!

তবে কেন শোনা যায়, অফিসের উর্ধ্বতন কলিগ কিংবা মালিক দ্বারা এক মহিলা কর্মকর্তার যৌন হয়রানির খবর?

কেন শোনা যায় উচ্চ শিক্ষিত স্বনামধন্য পরিবারের স্ত্রীলোকটি স্বামীর হাতে পরে পরে মার খায়?

কেন শোনা যায় যৌতুক দিতে না পারায় গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন করে পুড়িয়ে মেরেছে?

নারী নাকি তার যোগ্য স্বাধীনতা পেয়েছে! আদিমকালের সমস্ত কুসংস্কার ভেঙে ফেলে সংস্কারের পথে হেঁটে চলেছে। পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান তালে কাজ করছে এবং মাঝে মাঝে সমমর্যাদা পেয়ে উন্নতির উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হচ্ছে।

কিন্তু কি জানেন! এই নারীটিও যখন অফিস কিংবা ব্যবাসায়িক সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে ঘরে ফেরে তখন তার যোগ্য মর্যাদা পায় না।
বাইরের এতো হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যখন ঘরে ফিরে আসে তখন সে চায় বাইরের জগতের সমান মর্যাদা ঘরেও তাকে দেয়া হোক। সমান না হোক ন্যূনতম মর্যাদা অন্তত পরিবারের লোকজন তাকে দিক। সবাই কষ্ট দিলেও বাবা-মা আর স্বামীর দেয়া আঘাত মেনে নেয়া যায় না। এদের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। কিছু না হোক বাবা-মা কিন্তু একটুখানি স্নেহের পরশ দিতেই পারেন।

শুধু কিছু বাক্য, “ইস! মেয়েটা আমার বাইরে কতো খাটুনি খেটে বাড়ি ফিরলো! সারাদিন ভালোভাবে পেট পুরে খেতেও পারেনি, মুখটা কেমন শুকনো দেখাচ্ছে! ”
এই বাক্যগুলো দিয়ে আপনি আপনার মেয়েটির সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দিতে পারেন।

আর স্বামীর কাছে চাওয়া-পাওয়াগুলো সব পূরণ না হলেও শুধু একটু হাতটা ধরে বলুক, “অনেক পরিশ্রম করে এসেছো! কষ্ট বুঝি অনেক..! এবার সব কাজ ফেলে আমার কাছে একটু বসো, আমি আছি তোমার পাশে।”

এই প্রত্যাশা কি খুব অন্যায়?

অথচ জানেন! এতো পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরে স্বামীর মুখে শুনতে হয়,”বা* ফালায়া আসছো না রাস্তায়। সারাদিন তো বা* ফালাইছ।”

এগুলোকে কি স্বাধীনতা বলে? কোথায় দিলেন আপনারা নারীকে সম্মান?

এবারে আসি সেই নারীকে নিয়ে যে কখনও বাইরের জগতে সেভাবে বিচরণ করেনি। কিন্তু তার খুব ইচ্ছে করে স্বাধীনভাবে নিজেকে যোগ্য করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে। অনেক পড়াশোনা করে অনেক বড় হবার স্বপ্নে পরিবার আগেই বাঁ হাত দিয়ে দেয়। বিয়ে দিয়ে তাকে পিছনে ফেলে দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এদের পড়াশোনার গন্ডি ঐ বিয়ের আগের ডিগ্রি পর্যন্তই থাকে। আর আগানোর সুযোগ হয় না তার। সংসারের ঘানি টানা, বাচ্চা লালন-পালনেই জীবন পার হয়ে যায়। কেউ কখনও জানতেও চায়নি তার কী ভালো লাগে, কী ইচ্ছে করে। সংসার ধর্মে পঁচে গলে গন্ধ ছড়ালে কিন্তু সে গন্ধ বাইরে যায় না। যার যার জীবন তার তার মুখ বুঝে মানিয়ে নিয়ে বা মেনে নিয়ে চলতে হয়।

আর যেসব নারী বিয়ের পর পড়াশোনা করে তাদেরকে কঠিন সংগ্রামে নামতে হয়। সংসার ধর্মও পালন করতে হয় আবার পরীক্ষায় পাশও আবশ্যক হয়ে যায়। বাপের টাকায় পড়া আর স্বামীর টাকায় পড়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য। পান থেকে চুন খসলেই খোঁটা দিতে থাকে। আর যদি সে সংসারে শাশুড়ী-ননদ থাকে তাহলে তো কথাই নেই। স্বামীর চেয়ে ৪গুণ বেশি বাঁশ খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।

শাশুড়ী কখনওই মা হতে পারেন না। ননদ কখনও বোন হতে পারেনা। আবার দেবর কখনো নিজের ভাই হতে পারে না।

আপনার মতামত লিখুন :