রায়হান কবীর মুক্ত হয়ে এখন দেশে

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৩৯ AM, ২২ অগাস্ট ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলে মালয়েশিয়া সরকারের রোষানলে পড়েন বাংলাদেশি শ্রমিক রায়হান কবীর। আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রবাসীদের কে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে রায়হান বলেন। মালয়েশিয়া সরকার করোনাভাইরাস এর সময় কালে অবৈধ প্রবাসীদের কে ধরে নিয়ে ডিপোর্ট করে দিচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মানবাধিকার লংঘন।

অবৈধ হওয়ার কারণে একজন শ্রমিক কে হাতকড়া পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত এনিয়ে প্রশ্ন তোলেন রায়হান। এটাই ছিল তার অপরাধ।

আল-জাজিরায় রায়হানের সাক্ষাৎকারটি প্রচার হওয়ার পরে তোলপাড় শুরু হয়। সে দেশের পুলিশ রায়হানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর রায়হান কবীর প্রকাশ্যে এসে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাক্ষাৎকারের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে রায়হান বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি, আমি প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলেছি, এই জন্য যদি আমার মৃত্যু হয় তাও আমি ভয় করি না। তারপরেই রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রায়হান কে গ্রেপ্তারের পরপরই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুরোধ জানায় যেন তাকে মুক্ত করে দেয়। এবং মালয়েশিয়ার দুইজন আইনজীবী রায়হানের পক্ষে আইনি লড়াই করার ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রায়হানকে তার দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এবং তাকে আর কখনোই মালয়েশিয়ার ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানান মালয়েশিয়ান সরকার। তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রায়হান মুক্ত হয়ে দেশে এসে পোছেন। দেশে আসার পরে রায়হান কবীর এনটিভির সাথে মুখোমুখি হয়ে বলেন, আলজাজিরায় আমি যা বলেছি, মালয়েশিয়া যা ঘটেছে এবং আমি যা আমার চোখে দেখেছি তাই বলেছি। লকডাউন এর সময় সরকার ঘোষণা দিয়েছে কোনো অবৈধ প্রবাসী কে গ্রেপ্তার করবেন কিন্তু তারা তাদের কথা রাখেন নাই। বাসায় বাসায় গিয়ে অবৈধ শ্রমিকদের কে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সেটা প্রবাসীদের প্রতি অন্যায় শুধু বাংলাদেশী নয় সকল প্রবাসীদের প্রতি একই আচরণ করছে পুলিশ। এটা সম্পূর্ণ মানবাধিকারের লঙ্ঘন’। আমরা যারা প্রবাসী আছি আমরা সেই দেশের গোলাম না, আমরা কাজ করে পয়সা উপার্জন করি। তাই বলে তারা আমাদের সাথে এরকম ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমান যুগে যে কোন মানুষ যেকোন দেশে কাজ করতে যেতে পারে। এটা গিভ অ্যান্ড টেক তারা ও আমার দেশের যেতে পারে আমি তাদের দেশে আসতে পারি তাই বলে আমাদের সাথে অন্যায় আচরণ করতে পারে না। এটাই আমি বুঝাতে চেয়েছিলাম ‌

এক প্রশ্নের জবাবে রায়হান বলেন মালয়েশিয়ার পুলিশ আমার প্রতি অনেক সদয় হয়েছে, তারা আমার সাথে ভালো আচরণ করেছে। কারণ আমি কোন ক্রিমিনাল না। এটা একটা তাদের দেশের পাবলিক ডিমান্ড ছিল তাই তারা আমাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে।

রায়হান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ান দূতাবাসকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমাকে গ্রেপ্তারের পর মালয়েশিয়ান দূতাবাস আমাকে জানায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে আমি মুক্ত হতে পেরেছি তাই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।

আপনার মতামত লিখুন :