ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধ এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন

আবদুল্লাহ আল হাদীআবদুল্লাহ আল হাদী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:১৬ PM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ওবায়েদ মোঃ আব্দুল্লাহ আল হাদী,চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান : সারাদেশে ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধ এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবীতে রাঙামাটির স্বেচ্ছাসেবীদের আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘নিরাপদ থাকুক সকল মা বোন, দেশে বন্ধ হোক ধর্ষণ নির্যাতন’ এই প্রতিপাদ্যে সারাদেশে ধর্ষণ নির্যাতন বন্ধ এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবীতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন পালন করা হয়।

একজন মেয়ে যখন ধর্ষণের শিকার হন, তখন তার মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, তা কি আমাদের ভেবে দেখা উচিত নয়? পাশাপাশি ওই মেয়েটিকে বা ওই মেয়েটির পরিবারকে আমাদের ‘সমাজ’ই বা কোন চোখে দেখে থাকে, তা কি আমরা ভেবে দেখি? আমরা কি ভেবে দেখেছি, একজন মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওই ঘটনা তাকে সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়ানোর ফলে তার মানসিক শান্তি থাকে না। থাকে না ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন এবং শেষ পর্যন্ত তার আত্মবিশ্বাসটুকুও দিনে দিনে লোপ পেতে থাকে।

আবার অনেক সময় অনেক মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে থাকেন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ, ন্যক্কারজনক ও জঘন্য ঘটনা ঘটলেও ধর্ষিতা কিংবা তার পরিবার ন্যায়বিচারটুকু পর্যন্ত পান না। একটি স্বাধীন, সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে এর চেয়ে বড় লজ্জার, দুঃখের ও আশ্চর্যের বিষয় আর কী হতে পারে?

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০১৯ সালে দেশে ১ হাজার ৪১৩ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৩২। অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণ; যা প্রকৃতই উদ্বেগের বিষয়। শুধু তাই নয়, এটি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বলা বাহুল্য, কোনো সমাজে ধর্ষণ বিস্তৃত হলে এবং ধর্ষকদের কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা না হলে সেই সমাজে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বলে কিছুই থাকে না।
এদিকে গটেজাওয়া রাঙ্গামাটির মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, বিশিষ্ট সমাজসেবক জিমি কামাল সহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :