মাগুরায় পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে দম্পতির প্রতারণা,নিঃস্ব সেলিমের পরিবার

আবদুল্লাহ আল হাদীআবদুল্লাহ আল হাদী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১৬ PM, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

নিউজ ডেস্ক :  মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালী গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে মোঃ সেলিম আজাদ ও তার পরিবারের কাছ থেকে এক দম্পতি চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ভুক্তভোগী সেলিম আজাদের ছোট ভাই হোসাইন আলী (২০) কে পুলিশের এসআই পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোছাঃ মনিনুন্নাহার ও তার স্বামী পলাশ মাহমুদ নামের এই স্বামী- স্ত্রী দম্পতি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় । এঘটনায় ওই প্রতারক দম্পতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযোগের তদন্ত সূত্র এবং তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মোছাঃ মনিনুন্নাহার পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা। সে মাগুরা সদর উপজেলার কোদালে শ্রীরামপুরের আজিজ মোল্যার মেয়ে। আর মনিনুন্নাহারের স্বামী পলাশ মাহমুদ নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার হেচলাগাতি গ্রামের মকবুল মোল্যার ছেলে। শিক্ষিকা মনিনুন্নাহার মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের তাড়ড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।

চাকরির সুবাদে এই দম্পতি একসঙ্গে পাশে গোয়ালবাথান এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ভাড়াবাড়ির পাশেই সেলিম আজাদের ফার্মেসির দোকানে এসে বসতেন পলাশ মাহমুদ। এভাবে পলাশ ও সেলিমের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেলিমের ছোট ভাইকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পলাশ ও তার স্ত্রী গত বছরের ৫ই জুন বিভিন্ন মাধ্যমে ১৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। চাকরি হয়নি পরে টাকা ফেরত না দিলে টাকা আত্নসাতের অভিযোগ এনে চলতি বছরের ১লা মার্চ ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মাগুরা পুলিশ সুপার ও সদর থানা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগী সেলিম। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ওই দম্পতিসহ মগবুল হোসেন (৬৫), রাসেল শেখ (২৫) ও রাব্বি (২২) নামের ৫ জনকে একই মামলায় আসামি করে ভুক্তভোগী সেলিম বাদী হয়ে মাগুরার আদালতে প্রতারণা মামলা দায়ের করে।

এসব বিষয়ে গোয়ালবাথান এলাকায় খোজ নিয়ে জানা যায়, এই দম্পতি বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকার বিভিন্ন দোকানে বাকি টাকায় বাজার সদাই করে পাওনাদারের টাকা না দেওয়া অভিযোগ আসে।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী সেলিম আজাদ এই প্রতিবেদককে জানায়, ছোট ভাইয়ের বেকার জীবনে একটা চাকরি হবে এমন সরল বিশ্বাসে টাকা দিয়েছিলাম তাদের। পলাশ ও তার স্ত্রী বলেছিল চাকরি না হলে টাকা ফেরত দিবে। চাকরি হয়নি কিন্তু এখন টাকাটাও ফেরত দিচ্ছে না তারা। প্রতারণা শিকার হয়ে সর্বস হারিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান ভুক্তভোগী সেলিম।

এদিকে করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকা ও এলাকা ছেড়ে পালানোর কারণে মনিনুন্নার ও তার স্বামী পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে এই প্রতারক দম্পতি ও আসামি চক্রের বিরুদ্ধে কঠিন আইনি শাস্তির দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।

আপনার মতামত লিখুন :