লালমনিরহাটে স্ত্রীকে খুশি করতে ১৬ লাখ টাকায় হাতি কিনলেন কৃষক

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪২ PM, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর জন্য তাজমহল তৈরী করেছেন। আজো ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়েছে আছে। বাদশা শাহজাহানের মতো স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায়, স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে এবার জমি বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে হাতি কিনলেন কৃষক দুলাল চন্দ্র রায়।

দুলাল চন্দ্র রায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রথিধর দেউতি গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র নাথের ছেলে। এর আগেও স্ত্রীর বায়নায় ঘোড়া ও রাজহাঁস কেনেন দুলাল চন্দ্র রায়। স্ত্রীকে খুশি করতে তিনি সবসময় প্রস্তুত।

জানা যায়, প্রাণী সংরক্ষণ ও যত্নবান হতে দৈব নির্দেশ (স্বপ্নে আদিষ্ট) পান কৃষক দুলাল চন্দ্রের স্ত্রী তুলসী রানী দাসী। ওই দৈব নির্দেশ পালনে কয়েক বছর আগে স্বামীর কাছে প্রথমে একটি ঘোড়া, রাজহাঁস ও ছাগল কিনে তাদের পরিচর্যা করেন তুলসী রানী দাসী। এক বছর আগে আবারো দৈব নির্দেশ পান হাতি কিনে যত্ন নেয়ার। এ নির্দেশনা পেয়ে পুনরায় স্বামী দুলালের কাছে হাতি কিনতে বায়না ধরেন তুলসী রানী।

স্ত্রীর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে ১১ বিঘা জমির দুই বিঘা বিক্রি করে হাতি ক্রয়ের পরিকল্পনা নেন দুলাল চন্দ্র। পরিকল্পনা করে থেমে থাকেননি বরং খোঁজ-খবর নিয়ে সিলেটের মৌলভীবাজার গিয়ে সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতি কেনন তিনি।

 

২০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া দিয়ে হাতি নিয়ে গত সপ্তাহে বাড়ি ফেরেন কৃষক দুলাল। হাতিকে দেখভাল করতে ইব্রাহীম মিয়া নামে এক মাহুতকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে মৌলভীবাজার থেকে নিয়ে যান তিনি।

গ্রামের প্রভাবশালী কৃষক দুলাল চন্দ্র হাতি কিনেছেন শুনে শুধু ওই গ্রামবাসী নয়, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন হাতিটি দেখতে ভিড় করছেন দুলাল-তুলসী দম্পতির বাড়িতে।

ওই গ্রামের সফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন ধরে শুনছি দুলাল চন্দ্র হাতি কিনবেন। অবশেষে জমি বিক্রি করে তিনি স্ত্রীর কথামতো হাতি কিনে এনেছেন। সেই হাতি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় করছেন। তারা প্রভাবশালী মানুষ। হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি বা ব্যবসা করার জন্য কেনননি।

হাতি দেখতে আসা মতিয়ার রহমান বলেন, জীবনে অনেকবার হাতি দেখেছি। তবে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে এই যুগে কেউ হাতি কিনেছেন সেটা শুনে দেখতে এসেছি।

হাতির মাহুত ঈবাহীম বলেন, খাওয়া থাকাসহ প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা মজুরিতে মৌলভীবাজার থেকে এসেছি। এছাড়া মাহুত বানাতে স্থানীয় দুইজনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তারা প্রশিক্ষিত হলে তাদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে চলে যাবো।

হাতির মালিক দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে, তাকে খুশি করতে জমি বিক্রি করে সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতিটি কিনেছি। হাতিটির দেখভাল করতে মৌলভীবাজার থেকে মাহুতকে নিয়ে এসেছি, যাতে হাতির পরিচর্যায় কোনো কমতি না হয়। আপাতত হাতির পেছনে মাহুতের মজুরি এবং কলাগাছের জন্য দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :