পুতুলের কন্ঠে যাদু আছে

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৫৩ PM, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

যার গানে দেশবিদেশ এর সঙ্গীত অনুরাগীরা প্রাণ ভরে গান শুনে সুরের সাগরে হারিয়ে যান, এমনি মধু মাখা কণ্ঠ ও সুরের অধিকারীনির নাম পুতুল রায়। রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় পম্চিম পড়িখাল গ্রামের শ্রী উপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মাতা শ্রী মতি মিনতি রানীর মেয়ে পুতুল রায়।
তার পরিবারে ঠাকুরদাদা স্বর্গীয় যতীন্দ্র নাথ বিশ্বাস এবং তার বাবা খোল এবং করতাল বাজাতেন। তার বয়স যখন ৫ বৎসর তখন তার প্রতিবেশি কাকা শ্রী শ্যামল চন্দ্র সরকার তাকে ডাঃ এম এ হামিদ এবং মাহাদুল এর সঙ্গীত একাডেমিতে নিয়ে যায়, সেখানেই তার সঙ্গীত জীবনের হাতে খড়ি। পরবর্তীতে খলেয়া গঞ্জিপুর “কচি কন্ঠের আসর” এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জনাব হারুন অর রশিদ গান শুনে তার সঙ্গীত বিদ্যালয়ে এনে সঙ্গীত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন থানা, জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করার সুযোগ করে দেন এবং প্রতিটি প্রতিযোগিতায় পর্যাক্রমে ১ম,২য়,৩য় স্হান অধিকার করে আজ পর্যন্ত অনেক গুলো সনদ অর্জনকারী এই কণ্ঠশিল্পী।
তার বাবার আর্থিক অভাবের কারনে সাদা মনের মানুষ জনাব হারুন অর রশীদ হারুন সেই থেকে তাকে বিনা পয়সায় লেখাপড়া করার সুযোগ করে দেন। এমন কি তার বই পত্র খাতা কলম, যাতায়াত ভাড়া পর্যন্ত বহন করেন তিনি। সেখানে দোতারা বাজাতেন হরিদাস চন্দ্র রায়, যে বর্তমানে পুতুলের স্বামী।
তার সাথে প্রেম ভালবাসার মাধ্যমেই সঙ্গীত জীবনেই দুজনের বিয়ে হয়ে যায়। তার পর থেকেই দুজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিভিন্ন মঞ্চে একসাথে অনেক সঙ্গীত অনুষ্ঠান করেই চলছে এখন পর্যন্ত। বর্তমানে তার স্বামীর সহযোগীতা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে, সব সময় পাশে থেকে উৎসাহ দিয়ে এবং তাকে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আজ পর্যন্ত সর্বক্ষন সহযোগীতা করে আসছেন তিনি। তাদের সংসারে একটি মেয়ে নাম পৃথিকা রায় প্রিয়ামনি, বয়সঃ ৭ বৎসর। সেও নৃত্য শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন।
ভাওয়াইয়া গান, ছড়া গান ও সহ দেশাত্ববোধক গান চর্চা করেন তিনি।
ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসাবে এবং তার স্বামী হরিদাস চন্দ্র রায় দোতরা বাদক হিসাবে ২০১৬ সালে দুজনে বাংলাদেশ বেতার রংপুরে তালিকা ভুক্ত হন। মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮ ই তারিখ রাঙা সকাল অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন এই সুরেলা কণ্ঠের শিল্পী পুতুল রায়। ৩০ডিসেম্বর ২০১৭ সালে তার স্বামী হরিদাস চন্দ্র রায় এর সার্বিক ব্যাবস্হাপনায় মাকসুদার রহমান মুকুলের সহযোগীতায় রংপুর টাউন হল মঞ্চে তার একক সঙ্গীত সন্ধ্যা “মাটির গান” এর মাধ্যমে রংপুর বিভাগে ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসাবে অনেক সুনাম অর্জন করেন তিনি।
২০১৮ সালে খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট এর সহযোগীতায় পর পর তিনবার ভারতের কোচবিহারে উজানিয়া ভাওয়াইয়া উৎসবে, উত্তর দিনাজপুরের রায় গঞ্জে বিশ্ব বাউল ও লালন উৎসবে এবং নেপালে প্রোগ্রাম করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন তিনি। এ বছরও ভারতে অনেক প্রোগ্রামের আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার। বর্তমানে তার স্বামী হরিদাস চন্দ্র রায় ভাওয়াইয়া অঙ্গন রংপুর বিভাগীয় শাখায় বিনামুল্যে দোতরা প্রশিক্ষন দিচ্ছে, সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতি শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ক্লাস করছেন।
তার গলায় সুর সঙ্গী যতদিন থাকবে ঠিক ততদিন বেঁচে থাকতে চায় মাটি ও মানুষের এই শিল্পী। তিনি শত দারিদ্রতার মাঝে থেকেও সংগীতকে ভালোবেসে ধরে আছে।
তার রংপুরে যেমন ভক্ত রয়েছে ঠিক একই রকমের ভক্ত রয়েছে দিনাজপুর জেলাতেও। এই গুনোধর শিল্পীর সুরের মুর্ছনায় ভরে যাক সারা পৃথিবী এমনটি রংপুর বিভাগের মানুষ মনে করেন।

আপনার মতামত লিখুন :