এ কেমন খামখেয়ালীপনা! গাজী আল মামুন

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:১৮ PM, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্তব্ধ সারা পৃথিবী। থমকে গেছে সারা বিশ্বের অর্থনীতির চাকা। কর্মহীন হয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। স্থবির হয়ে আছে কল কারখানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর এই মহা দুর্যোগকালে যারা প্রবাসে অবস্থান করছেন তারাও আছেন মহাসংকটে। এরই মধ্যে অনেকে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে দিনযাপন করছে। আবার যারা প্রবাস থেকে ছুটি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান করছেন তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়। সময়মতো কর্মস্থলে ফিরে না আসায় আর্থিক সংকটের মধ্যে চলছে তাদের জীবন।

বিগত ছয় মাস থেকে এই অবস্থা বিরাজমান। কখন আবার স্বাভাবিক হবে সারা পৃথিবী নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না। তারপরও থেমে থাকবে না মানুষের জীবন। জীবিকার সন্ধানে কেউ দেশে কেউ প্রবাসে। ইতিমধ্যে অনেক দেশে এই মহামারী কমতে থাকায় তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে লক্ষ লক্ষ প্রবাসী চাকরি করছে কেউবা করছে ব্যবসা। এরই মধ্যে অনেকে ছুটিতে গিয়ে আটকে পড়ায় ফিরে আসতে পারেননি নিজ নিজ কর্মস্থলে।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবে ইতিমধ্যে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমতে থাকায় তারা ঘোষণা দিয়েছে আগামী পহেলা জানুয়ারি থেকে সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে আগের নিয়মে চলবে। ইতিমধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট গুলো চালু করেছে। এবং বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে সৌদি আরবে যে সকল প্রবাসী কর্মরত আছে তাদেরকে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ শে সেপ্টেম্বর সৌদি এয়ারলাইনস তাদের নিয়মিত ফ্লাইট চালু করেছে বাংলাদেশ থেকে সপ্তাহে দুই দিন। যদিও তারা আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছেন কিন্তু তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশ সরকার সৌদি এয়ারলাইনস কে সপ্তাহে দুইদিন ফ্লাইট পরিচালনার করার যে অনুমতি দিয়েছিল তা পুনরায় ক্যান্সেল করে দিয়েছেন। সূত্রে জানা যায় সৌদি আরব সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কে সৌদি আরবের ফ্লাইট পরিচালনা করার অনুমতি না দেওয়ায় তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার সৌদি এয়ারলাইনস কে দেওয়া অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়।

কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কি একবারও ভাবা উচিত ছিল না? তাদের এই হঠকারি সিদ্ধান্তের কারণে বেকার হয়ে যাবে লক্ষ লক্ষ প্রবাসী, চাকরি হারাবে, থেমে যাবে রেমিটেন্সের চাকা। নিঃস্ব হয়ে পড়বে লক্ষ-লক্ষ প্রবাসীর জীবন। কিন্তু এর দায়ভার নেবে কে। সরকার কি পারবে লক্ষ লক্ষ প্রবাসীর চাকরি ফিরিয়ে দিতে? বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ একবারও কি প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে নাই? সৌদি সরকার যদি অনুমতি না দেয় বাংলাদেশ বিমান কে, তার পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া কি ঠিক হয়েছে? কারণ এর সাথে জড়িত আছে লক্ষ লক্ষ প্রবাসীর জীবন-জীবিকার সম্পর্ক।

আশাকরি বাংলাদেশ সরকার পুনরায় বিবেচনা করবেন। প্রবাসীদের মুখের দিকে তাকিয়ে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি প্রবাসীরা সৌদি আরবের ফেরত আসতে না পারে হয়তো বা তাদের ভিসা ক্যানসেল হয়ে যাবে ফিরতে পারবে না আর কখনো সৌদি আরবে। জন্য শুধু প্রবাসীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না হবে পুরো দেশ।

সৌদি আরব থেকে গাজী আল মামুন।

আপনার মতামত লিখুন :