লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আওয়ামীলীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষ! আহত ১০

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৪ PM, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জে ইছাপুর ইউপির উপ-নির্বাচন ও বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দু-গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছে। ১০টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। আহতদের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে রামগঞ্জ পৌরসভার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি ইছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সহিদ উল্যাহ মারা যান। তার মৃত্যুতে উক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের পদ শুন্য ঘোষনা করে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন নির্বাচন কমিশন। তাই দলীয় প্রাথী চুড়ান্ত করতে শনিবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বর্ধিত সভা আহবান করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ। নিহত সহিদ উল্যাহর স্ত্রী শাহানাজ আক্তার ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এসআই ফারুক হোসেন উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজেরদের নাম ঘোষনা দেন। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়ে।
বর্ধিত সভায় যাওয়ার জন্য দুপুরে পৌরসভার কার্যালয়ের ভিতরে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু ও পৌর মেয়র আবুল খায়েরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। একই সময়ে পৌরসভার সামনের সড়কে বাহাদুর ইউনিয়ন আওয়ামলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান ভূইয়ার নেতৃত্বে, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এ নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা,ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়।
এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়। ভাংচুর করা হয় কয়েকটি মোটরসাইকেল। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে এ ঘটনার জন্য সংসদ সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন খাঁনকে দায়ী করে, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু ও পৌর মেয়র আবুল খায়ের বলেন, এমপির নির্দেশে এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
অপরদিকে আওয়ামীলীগ নেতা ও বাহাদুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান ভূইয়া, যুবলীগ নেতা সুমন ভূইয়া,ছাত্রলীগ নেতা অপু মালসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, সফিক মাহমুদ পিন্টু ও মেয়র আবুল খায়েরের নেতৃত্বে অর্তকিত ভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা সুমনসহ কয়েকজন নেতাকর্মীদের আহত করে উল্টো তাদের দোষারোপ ও এমপিকে জড়ানো হচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
এছাড়া তারা অভিযোগ করে বলেন,কিন্তু ব উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু ও পৌর মেয়র আবুল খায়ের দলীয় কোন কর্মসুচিতে অংশ নেয়না। মাঝে মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে না গিয়ে পৌরসভায় বসে নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভক্ত সৃষ্টি করায়।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ইউপির উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু-গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া,পাল্টা ধাওয়া ও সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :