আল্লামা শফীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন বড় মাপের আলেম -হাফিজুর রহমান

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:২৫ AM, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

আল্লামা শফী প্রচলিত অর্থে কোন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। বরং তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন বড় মাপের আলেম ও স্কলার। গত সাত-আটবছর আগের আল্লামা শফীকে বিবেচনা করলে আমরা উনাকে পাই একজন শিক্ষাবীদ হিসেবে যিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাওমী মাদরাসার প্রধান ছিলেন। সারাদেশে তার হাজার হাজার ছাত্র রয়েছে, যারা এখন বড় বড় মাদরাসা চালাচ্ছেন। বাস্তবতা হলো, এই মানুষগুলো ২০১২ সালের আগের সমাজে খুব সাধারণ “হুজুর” হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ, আরো স্পষ্টভাবে বললে তথাকথিত প্রগতিশীল সমাজ তাদেরকে যারপরনাই অবহেলা করতো। এখন আমার পয়েন্টে আসি, একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা না হয়েও একজন শিক্ষাবীদ তথা আলেমের ডাকে এভাবে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্পন্সরে চলা একটি বৃহৎ মুভমেন্টকে (শাহবাগী মুভমেন্ট) ধরাশয়ী করতে পারা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল ব্যাপার।

৫ মে রাতে কি হয়েছিল কিংবা কিভাবে/ কতটা মর্মান্তিকভাবে লোকজনকে হটানো হয়েছিল সেটা বড় কথা নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো শাপলা মুভমেন্ট মূলত বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের নবজীবন দিয়েছে কিংবা নব চেতনায় উজ্জীবীত করেছে। আমার দেখা, গত সাত বছরে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা ইসলামপন্থীরা যুগ যুগ ধরেও করতে পারেনি, বিশেষত ইসলামাইজেশন অফ সোসাইটির কথা বললে। এর মানে এটা নয় যে, বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ হয়ে গেছে কিংবা হতে যাচ্ছে! আমি বলতে চাচ্ছি পজেটিভ পরিবর্তনগুলো। নিঃসন্দেহে শাপলা মুভমেন্টের কিছু অপ্রাপ্তি/ দুর্বলতা থাকলেও এটার বিশাল অর্জন রয়েছে।

এবার আসি, এর নেতৃত্ব নিয়ে ঝামেলার ব্যাপারটিতে। একটি আন্দোলনে যখন সাময়িক বড় ধরনের বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয় তখন এর মাঝে কোন্দলগুলো জেগে উঠে এবং উঠাটাই স্বাভাবিক। যেহেতু সরকারের নানা বাহিনী বসে ছিলনা এবং নানাভাবে নেতাদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে সেহেতু এই কোন্দলটা অপ্রত্যাশিত হলেও ঘটে গেছে। এরমাঝে সবচেয়ে রূঢ় হলো কিছু নেতার দুর্নীতি পরায়ণ হওয়া/ নানাভাবে ক্ষমতাকে নিজের অর্থসম্পদ কমানোর ধান্ধা হিসেবে গ্রহন করা। যার সর্বশেষ পরিণতি ছিল, আল্লামা সফী পুত্র আনাস মাদানীর বহি:স্কার এবং আল্লামা শফীর নিজেরও সরে যাওয়া। এখান থেকে ইসলামপন্থীসহ সবারই শেখার আছে।

সর্বশেষ আসি, ইসলামপন্থীদের ব্যাপারে। বাংলাদেশের সমাজ নিঃসন্দেহে রক্ষণশীল। এখানে যে সেক্যুলারিজম-প্রগতিশীলতার প্রাকটিস হয় এগুলো খুব নিছু মানের সেক্যুলারিজম-প্রগতিশীলতা। এর তা্ত্বিক ভিত্তি খুবই দুর্বল, একদম মিথ্যা- অবাস্তব কিছু ন্যারেটিভের (বক্তব্যর) উপর দাড়িয়ে আছে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের ৫% মানুষও সামগ্রিকভাবে এগুলোকে সাপোর্ট করেনা। সুতরাং, যদি সকল জনগনকে ধারণ করতে পারেন, সবাইকে কাছে টানতে পারেন এবং নিজের মনে করতে পারেন তাহলে এখানে পরিবর্তন করা সম্ভব। এজন্য নিজেদেরকে সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে হবে, সাধারণ মানুষ কি চায় তা বুঝতে হবে এবং দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই চিন্তা করতে হবে।

আল্লামা সফী উনার জায়গায় কাজ করেছেন এবং সফল হয়েছেন। কিছু দুর্বলতা অবশ্যই ছিল বিশেষত গত কয়েক বছরে, কিন্তু উনার অবদান বিশাল। আল্লাহ উনার অবদানগুলো কবুল করুন, ভূলগুলো মাফ করে দিন। হেফাজত তার অনুপস্থিতিতে ঘুরে দাড়াক এটাই প্রত্যাশা।

হাফিজুর রহমান লেখক এরদোগান দ্যা চেঞ্জ মেকার ও পিএইচডি গবেষক গাজী ইউনিভার্সিটি আঙ্কারা তুরস্ক।

আপনার মতামত লিখুন :