গাজীপুরের শ্রীপুরে গৃহবধূর রহশ্যজনক আত্মহত্যা

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:১৫ AM, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

মনিরুল ইসলাম মেরাজ। গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক অসন্তোষের জেরে গৃহবধূ হাসিনা বেগম (৪০) ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার জৈনা বাজার (আবদার) এলাকার ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বেপারীর স্ত্রী।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তেলিহাটি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য তারেক হাসান বাচ্চু জানান, প্রায় ৪/৫ দিন আগে গৃহবধূ হাসিনা বেগম তার ছেলে জুবায়ের আহমেদ জয়ের সহযোগিতায় স্বামী তোফাজ্জল হোসেনকে গোপনে মাদক সেবনের অভিযোগে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকার রিহ্যাব সেন্টারে (মাদক নিরাময় কেন্দ্র) ভর্তি করে আসেন।

পরে ভাইয়ের সন্ধান না পেয়ে বড় ভাই কুজাম বেপারী বাদী হয়ে ভাবী হাসিনা বেগম ও ভাতিজাকে অভিযুক্ত করে সোমবার রাতে শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তদেরকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে ছেলে জয় জানায় বাবা মাদকাসক্ত না। মা’য়ের পরামর্শে তার বাবাকে মুক্তাগাছা এলাকার রিহ্যাব সেন্টার রেখে আসা হয়েছে।

পরে থানা পুলিশের নির্দেশে তার বাবাকে রিহ্যাব সেন্টার থেকে বাড়িতে আনা হয়। বাবা বাড়িতে এসে এসব কর্মকাণ্ড শুনে স্ত্রী হাসিনা বেগমকে তালাক দেন। কিন্তু এরপরও হাসিনা বাড়ি না ছাড়ায় তোফাজ্জল বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দেন। শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টায় ছেলে ঘুম থেকে উঠে তার মা’কে ঘরে শুয়ে থাকতে দেখে বাজারে চলে যায়। পরে বাজার থেকে এসে দেখে তার মা ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
ইউপি সদস্য আরও জানান, নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ ছিল তার স্বামী মাদকাসক্ত ছিল না। তবে, ঘরে বাইরের মেয়ে ও নারীদের নিয়ে ফুর্তি করতো। এজন্য তিনি ছেলের সহায়তায় তার স্বামীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য গোপনে রিহ্যাব সেন্টারে (মাদক নিরাময় কেন্দ্র) ভর্তি করে রেখে এসেছিলেন।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন মিয়া জানান, নিহত হাসিনার সঙ্গে তার স্বামী তোফাজ্জলের সম্পর্ক ভাল ছিল না।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানান এসআই হারুন।

তিনি আরও বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে লাশের গায়ে কোথাও কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গৃহবধূ পারিবারিক অসন্তোষে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :