রাষ্ট্রের সকল সেক্টর দুর্নীতিবাজ, অসাধু, বাটপারদের জালে বন্দি- অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:০১ PM, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধিঃ আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধা ৭ টায় পাওয়ার হাউজ মোড়স্থ আইএবি মিলানায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরের উদ্দোগে নগর, থানা ও সহযোগী সংগঠনের উর্দ্বতন দায়িত্বশীলদের সাথে এক যৌথসভা নগর সভাপতি আলহাজ্ব মুফতী মুফতী আমানুল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও নগর সেক্রেটারী শেখ মোঃ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

যৌথসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে আলোচনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল।

প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচীব মাওলানা আব্দুল কাদের।

যৌথসভায় আরও আলোচনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সহ সভাপতি মাওঃ মোজাফ্ফার হোসাইন, মুফতী মাহবুবুর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওঃ দ্বীন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওঃ মুফতী ইমরান হোসাইন, সহ সাংগঠনিক মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, প্রচার সম্পাদক ডাঃ মাওঃ নাসির উদ্দিন, সহ প্রচার গাজী ফেরদাউস সুমন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহ দপ্তর মোঃ সাইফুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা জিএম কিবরিয়া, সহ অর্থ আলহাজ্ব মোমিনুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওঃ হাফিজুর রহমান, সহ প্রশিক্ষণ মোঃ আব্দুল্লাহ আল নোমান, ছাত্র ও যুব বিষয়ক মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মাওঃ শায়খুল ইসলাম বিন হাসান, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুস ছালাম, মহিলা ও পরিবার বিষয়ক হাফেজ আব্দুল লতিফ, সংখ্যালঘু বিষয়ক আলহাজ্ব আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, মাওঃ সিরাজুল ইসলাম, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম, হাফেজ খায়রুল ইসলাম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন খুলনা মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক গাজী মুরাদ হোসেন, ইসলামী যুব আন্দোলন খুলনা মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম, সহ সভাপতি মুফতী আব্দুর রহমান মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক মুফতী আমিরুল ইসলাম, ইশা ছাত্র আন্দোলন নগর সভাপতি এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঈনুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন সদর থানার সভাপতি আলহাজ্ব আবু তাহের, সেক্রেটারী মোঃ শরিফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা সভাপতি মুফতী ইমরান হোসাইন, সেক্রেটারী মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, খালিশপুর থানার সভাপতি হাফেজ আব্দুল লতিফ, সেক্রেটারী মাওঃ হাফিজুর রহমান, দৌলতপুর থানার সভাপতি মোঃ গোলাম সরোয়ার, সেক্রেটারী হাফেজ খায়রুল ইসলাম, খানজাহান আলী থানার সভাপতি মোঃ শেখ জামিল হোসেন, সেক্রেটারী মোঃ কামরুল ইসলাম, লবণচরা থানার সভাপতি মাওঃ দ্বীন ইসলাম, জয়েন্ট সেক্রেটারী মোঃ শফিউল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর আব্দুল আউয়াল বলেন, স্বাস্থ্যখাতের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র দেশবাসীকে হতবাক করেছিল। এখন আবার তিতাস গ্যাস চুরির হরিলুটে বিস্মিত করছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সকল সেক্টর দুর্নীতিবাজ, অসাধু, চোর-বাটপারদের জালে বন্দি। নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুল সালাহ মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় গ্যাস বিভাগের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠছে। নারায়ণগঞ্জে বাসাবাড়ি ও শিল্প-কারখানায় তিতাস গ্যাসের অবৈধ লাইনের ছড়াছড়ি। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং তিতাস গ্যাসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে যে যেভাবে পেরেছে এসব সংযোগ নিয়েছে। এমনকি মাটির ওপর দিয়ে প্লাস্টিকের পাইপ, জরাজীর্ণ লোহার পাইপ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নেওয়া হয়েছে এসব অবৈধ গ্যাসের সংযোগ। ফলে যেকোনও সময় ঘটতে পারে নারায়ণগঞ্জের মসজিদের বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অপরদিকে এভাবে অবৈধ সংযোগ নেওয়ায় সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রধান আলোচক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওঃ আব্দুল কাদের বলেন, পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৭৯ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ যার গ্রাহক দুই লাখ। শুধু আবাসিক বাসাবাড়িতেই নয়, বাণিজ্যিক লাইনেও রয়েছে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার উৎসব। সর্বাধিক অবৈধ লাইন বন্দর উপজেলায়। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনেই রূপগঞ্জ ও বন্দরের বিভিন্ন ইউনিয়নের ১১ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন তিতাসের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাহলে সহজেই বুঝা যায় দুর্নীতি কোন পর্যায়ে? তিনি বলেন, যদি একটি জেলায়ই শুধু ২ লাখ অবৈধ লাইন থাকে, তাহলে বাকি জেলাগুলোতে কী পরিমাণ অবৈধ সংযোগ রয়েছে তা বলা বাহুল্য। তিনি বলেন, এক সময় একেকটি বিভাগের দুর্নীতি দেশবাসির সামনে চলে আসছে। এর আগে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি দেশবাসী দেখেছে। এখন গ্যাস বিভাগের দুর্নীতি দেখছে। তিনি বলেন, এভাবে রাষ্ট্রের রন্দ্রে রন্দ্রে দুর্নীতি মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাচ্ছে। যা আমাদের জন্য চরম অবমাননাকর। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে নেতৃত্বের সর্বস্তরে আল্লাহভীরু নেতা নির্বাচিত করতে হবে। ইসলামী অনুশাসন ছাড়া দুর্নীতিগ্রস্ত এ জাতিকে রক্ষা করা যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন :