আমি এখন কি করবো? মোস্তফা ফিরোজ

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৪১ AM, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, দীর্ঘ পেশাগত জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে আমি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের ভিতরে পড়েছি। অথচ একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসাবে আমি সব সময় পেশার প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ছিলাম। অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করেছি। রিপোর্টিং এবং সম্পাদকীয় নীতিতে আমি সব সময় নিরপেক্ষ ছিলাম। কখনো কোন সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে আমি ব্যবহৃত হয়নি। যেটা সঠিক সত্যি বলে মনে করেছি সেটাই বলেছি ও লিখেছি। এতে কোন কোন মহল ক্ষুদ্ধ হতে পারে। কিন্তু তাতে আমার কিছু করার নেই। পেশাগতভাবে আমি দলমত নির্বিশেষে জনগণের কাছে সবসময় দায়বদ্ধ থেকেছি। আমি দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত ৭২ সালে সংবিধানের প্রতিও দায়বদ্ধ।

আমার এই সাংবাদিকতা নীতির প্রতি সবারই সমর্থন প্রত্যাশিত ছিলো। কিন্তু তারপরও আমি চরম দূর্ভাগ্যের শিকার হলাম।

কোন কোম্পানি আইনে জোরপূর্বক কোন ছুটির বিধান নেই। কিন্তু বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষ আমাকে গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সেই বিধিবহির্ভূত ছুটিতে পাঠালো। মেনে নিলাম।
ছুটিতে পাঠানোর পরদিনই আমার ব্যবহৃত গাড়িটি কেড়ে নিলো। মেনে নিলাম।
তিন সপ্তার মাথায় আমার পদে তারা আব্দুল হাই সিদ্দিকীকে বসালো। মেনে নিলাম।
তার কিছুদিন পর আমার অফিস কক্ষের সব জিনিসপত্র বোচকা করে বেঁধে করিডোরে ফেলে রাখা হলো। মেনে নিলাম।
আমি ছুটিতে। চাকরি থাকলেও অফিসে আমাকে নিষিদ্ধ করা হলো। অবাক কান্ড। আমি কোন অপরাধ না করেও অপরাধী হয়ে নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। তাও মেনে নিলাম।
শুধু তাই না। এবার তারা আমার পেটে হাত দিলো। ছুটি আমার দুই মাসের। কিন্তু ছুটির ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বেতন ভাতা দেয়া বন্ধ রাখা হলো। এরপর দুটি ঈদ গেলো। অফিসের সবাই ঈদের বেতন বোনাস পেলো। আমি পেলাম না। মনে মনে খুবই কষ্ট পেলাম। কিন্তু পরিবার ও পরিচিত কাউকে বুঝতে দিলাম না। দীর্ঘ ১২ বছর অফিসের সহকর্মীদের বেতন ভাতা বাড়ানো ও ইনক্রিমেন্টের জন্য যুদ্ধ করেছি। আমিই সাহস করে মুখ খুলতাম। কিন্তু আমি যখন সংকটে পড়লাম তখন তেমন কেউই আর খোঁজ করলো না আমার। হয়তো এটাই দুনিয়ার নিয়ম! যাক্ সে কথা।

আমার সেই দুই মাসের ছুটি আর শেষ হলো না। এপ্রিলের ৩ তারিখে অফিস থেকে বলা হলো টারমিনেশন না রেজিগনেশান, কোনটা আমি চাই। বললাম, আমি কেন পদত্যাগ করবো? আপনারা পারলে টারমিনেশন করেন। মুহূর্তে সব রেডি। তখন বললাম, আমি ছুটি শেষ হলে অফিসে জয়েন করবো। তারপর আমার বিষয়ে নিয়মমাফিক সিদ্ধান্ত নিন। আর এর ভিতরে যেসব নিয়মবহির্ভূত কাজ করা হলো তার ব্যাখ্যা দিন। ব্যাস। আর কথা নেই। তারা চুপ হয়ে গেলো। আমি জানি তারা যেসব কোম্পানি আইনের লঙ্ঘন করেছে তার জবাব দিতে পারবে না।
তাহলে আমি এখন কোন অবস্থায় আছি? কি আমার করনীয়? আট মাস হয়ে যাচ্ছে। বেতন ভাতা পাচ্ছি না। ঢাকা শহরে জীবনযাত্রার যে ব্যয় তাতে আট মাস চাকরি ছাড়া চলা যে কতো কষ্টকর সেটা নিশ্চয়ই সবার জানা। তেমনই একটা আর্থিক সংকটে আমি হিমশিম খাচ্ছি। একই সঙ্গে ভোগ করছি চরম মানসিক যন্ত্রণা। বার বার মনে প্রশ্ন ওঠে আমার অপরাধটা কি? একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে আমি সবসময় স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার চেষ্টা করি। এটাতো কোন অপরাধ হতে পারে না।
আবার প্রতিষ্ঠানে আমার সহকর্মীরা আমাকে ভালোবাসেন। আমি সব সময় তাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার বিষয়ে সজাগ থাকি। গত ১২ বছর আমি বাংলাভিশনের নিউজ সহ সব বিভাগের কর্মীদের অত্যন্ত একজন আপনজন বা অভিভাবক হিসাবে মিলেমিশে থেকেছি। তাহলে বাংলাভিশনে আমাকে কোন অপরাধে শাস্তি দেয়া হচ্ছে? সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে আমাকে কেন এই শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে? কেন আমি এই দূর্ভাগ্যের শিকার হলাম?
আমি এখন কি করবো?

 

আপনার মতামত লিখুন :