নতুন ১২ জন সহ গাইবান্ধায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৭

আবদুল্লাহ আল হাদীআবদুল্লাহ আল হাদী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:০২ AM, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধায় কোভিড–১৯ রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক হাজার। জেলায় নতুন করে ১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এই জেলায় করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন ১ হাজার ১৭ জন।

জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী সদর উপজেলায় ৩৪৩ জন। এরমধ্যে শুধুমাত্র গাইবান্ধা পৌরসভাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৫৯ জন। এ ছাড়া এ রোগে জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গাইবান্ধায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় জেলায় করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ হাজার ১৭ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৮৩ জন। বিভিন্ন আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন ৩২০ জন। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে সদরে ৩ জন, গোবিন্দগঞ্জে ১ জন, ফুলছড়িতে ১ জন, সাঘাটায় ১ জন, সাদুল্লাপুরে ২ জন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন।

সংখ্যাধিক্য অনুযায়ি বুধবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গাইবান্ধা সদরে সবচেয়ে বেশি ৩৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ২৫৯ জন)। এর পরের অবস্থানে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পাওয়া গেছে ২৯৮ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ১৬২ জন), পলাশবাড়ী উপজেলায় ৮৯ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ৫৫ জন), সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৮৭ জন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৭২ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ৩২ জন), সাঘাটা উপজেলায় ৭০ জন ও ফুলছড়ি উপজেলায় ৫৮ জন।

তবে করোনার সংক্রমণের মধ্যেই আশার আলো এর সুস্থতার সংখ্যা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এ পর্যন্ত জেলায় ৬৮৩ জন মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ওই রোগ থেকে। এরমধ্যে গাইবান্ধা সদরে ১৮৩ জন, সুন্দরগঞ্জে ৫৫ জন, সাদুল্লাপুরে ৫৬ জন, গোবিন্দগঞ্জে ২৩৩ জন, সাঘাটায় ৬৬ জন, পলাশবড়ীতে ৭১ জন ও ফুলছড়িতে ৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

গাইবান্ধায় বর্তমানে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩২০ জনের মধ্যে ১৫৭ জন গাইবান্ধা সদরে, সুন্দরগঞ্জে ১৬ জন, সাদুল্লাপুরে ২৯ জন, গোবিন্দগঞ্জে ৬১ জন, সাঘাটায় ২০ জন, পলাশবাড়ীতে ১৪ জন ও ফুলছড়িতে ২৩ জন রয়েছেন।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৪ জন করোনা আক্রান্তরোগী মারা গেছেন। এরমধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৪ জন, সদরে ৩ জন, সাদুল্লাপুরে ২ জন, পলাশবাড়ীতে ৪ জন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে করোনা সংক্রমণ নিয়ে স্থানীয়রা অনেকটাই অসচেতন। চলাচলে অসতর্কতা এবং সামাজিক দূরত্ব ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি কেউ সঠিকভাবে মেনে চলছেন না। সাধারণ মানুষ হাঁটবাজার, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে অবাধে চলাচল করছেন। চলছে চায়ের দোকানে আড্ডা। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে কমেছে প্রশাসনের নজরদারিও। এতে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা

আপনার মতামত লিখুন :