গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মজিদুল ইসলাম ও নার্স বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ।

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:১০ PM, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাকিব হাসান চৌধুরি (সাম্য) গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার খলসী (মিঞা পাড়া) গ্রামের মৃত রুহুল হাসানের ছেলে সাজিদ আল-হাসান (২৪)’র থানায় দায়ের করা এজাহার সুত্রে প্রকাশ,তার স্ত্রী মোছাঃ নাইমা সুলতানা তিশা (২৩) গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মজিদুল ইসলামের কাছে চেকআপ করতেন।

তিনি ওই গর্ভবর্তী গৃহবধূর শারিরীক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ডেলিভারীর তারিখ নির্ধারণ করে দেন ১৪ সেপ্টেম্বর/২০।

কিন্তু নির্ধারিত তারিখের আগেই গত ৩০ আগষ্ট ওই গর্ভবর্তীর পেটের ব্যথা উঠলে এজাহারের স্বাক্ষী মোছাঃ মালেকা পারভীন (৪৫),মোছাঃ মুনছুর পারভীন (৪৩) সন্ধ্যার দিকে চেকআপের জন্য ডা.মজিদুলের ব্যক্তিগত চেম্বার-নর্থ বেঙ্গল ডিজিটাল ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন। ডা. মজিদুল ওই গর্ভবতীকে না দেখে তার চেম্বারের দ্বি-তল (ভবন) থেকে মোবাইল ফোনে উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স মোছাঃ বিউটি বেগম (৪৮)’র সাথে কথা বলে তাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

তার কথামত ওই গর্ভবতীকে জরুরী হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সন্তান ডেলিভারীর জন্য তাড়াহুড়া করে ডেলিভারী রুমে নেয়া হয়। নার্স বিউটি বেগম ২ জন আয়ার সহযোগিতায় ডেলিভেরী হওয়ার ব্যথা উঠানোর জন্য ইনজেকশন করেন এবং পেটে স্ব-জোরে ঘুষি মেরে পেটের উপর প্রবল চাপ প্রয়োগ করে ডেলিভেরী চলাকালে নার্স বিউটি মোবাইলে সারাক্ষণ কথা বলতে বলতে নবজাতক সন্তানটির গলাটিপে ধরে জোরপূর্বক টানাহ্যাচড়া করে ভূমিষ্ট করায়।

ভূমিষ্ট হওয়ার পর নবজাতক পুত্র সন্তানের নারী না কেটে মায়ের বুকের উপর স্ব-জোরে ছুঁড়ে ফেলে বকাবকি করে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতক সন্তানের নাক দিয়ে রক্ত ঝড়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩১ আগষ্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

নবজাতক শিশুর পিতা সাজিদ আল-হাসান সন্তান হত্যার অভিযোগ নিয়ে এসে ৩১ আগষ্ট ওই দিন বিকেলে ডা.মজিদুল ইসলাম,নার্স বিউটি বেগমসহ অজ্ঞাত ২ জন আয়ার নাম উল্লেখ করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আফজাল হোসেন থানায় এজাহার দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সচেতন মহলের অভিযোগ প্রতিনিয়ত গর্ভবতী মায়ের সন্তান ডেলিভারীর নামে নার্স সহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তাগণ দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করার কারণে অকারণে প্রায়ই নবজাতক সন্তান হাসপাতালে মারা যাচ্ছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এসব জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন :